কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ককে হল ছাড়ার নির্দেশের খবরে মধ্যরাতে ঢাবিতে বিক্ষোভ
কোটা বাতিল আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমকে হল থেকে বের করে দেয়ার খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অমর একুশে হলের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
নিবির সাহা
২ মিনিটে পড়ুন
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সারজিসের হল ছাড়ার নির্দেশের খবর ছড়িয়ে পরার পর অমর একুশে হলের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেখানে সারজিসকে হল থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা।
পরে রাত ১টার দিকে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম সৈয়দ ঘটনাস্থলে এসে সারজিসকে হল থেকে বের করা হবে না মর্মে নিশ্চয়তা দিলে শিক্ষার্থীরা অবস্থান তুলে নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যরাতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের নাম ভাঙিয়ে অমর একুশে হল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা সারজিস আলমকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও কারও নাম প্রকাশ করেননি সারজিস আলম।
তিনি জানান, ছাত্রলীগের হাইকমান্ড থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে তাকে জানানো হয়েছে। তার অভিযোগ, হল থেকে বের করে ক্রেডিট নিতে চেয়েছিলেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা।
সারজিস বলেন,
আমার সঙ্গে ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আমাকে যারা বলেছেন, তাদের সঙ্গে হাইকমান্ডের কথাই হয়নি। এটা ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের নির্দেশনা ছিল না। এটা করেছে আমাকে বের করতে পারলে সেটা দেখিয়ে পদ পাওয়ার জন্য। তারা এটা স্বীকার করেছে, মাফও চেয়েছে।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।
ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবির মুখে কোটাপদ্ধতি বাতিল করে ৪ অক্টোবর পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
কিন্তু কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ২০২১ সালে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরে পাওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে রিট করেন এবং গত ৫ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের পর গত ৬ জুন থেকেই তা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
তারপর হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার কোটার পক্ষের এক আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি করেনি আদালত। কিন্তু আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত না করায় পূর্বের নিয়মানুযায়ী সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা আপাতত বহাল রয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) থেমে থেমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হয়রানি রোধে সহায়তা সেল গঠন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ফাইল ছবি
শাহীন আলম
২ মিনিটে পড়ুন
বৃহস্পতিবার (রাবি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টরের সমন্বয়ে এই সেল গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেলের সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন ও ড. রতন কুমার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সংবাদ কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে রাবির কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, এই বিষয়ে রাবি কর্তৃপক্ষ দুজন সহকারী প্রক্টরের সমন্বয়ে একটি সহায়তা সেল গঠন করেছে। কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যদি অহেতুক হয়রানির শিকার হয় তাহলে সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
সহায়তা সেলের সদস্য সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হয় সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব। এক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থী নিজ এলাকায় প্রশাসনের হয়রানির শিকার হলে এবং আমাদের অবগত করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থানকালে এবং শহর থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
র্যালি-সমাবেশের ছবি বিএনপির ফেসবুক পেজে, সংশয়ে শাবিপ্রবির শিক্ষকরা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিবাদ র্যালি ও সংহতি সমাবেশ হয়েছে। বুধবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনা একাত্তরের সামনে থেকে র্যালি শুরু করেন শিক্ষকরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা প্রধান ফটকে এসে অবস্থান নেন। এতে বিভিন্ন বিভাগের, অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ফেসবুক পেজে শাবিপ্রবির এই শিক্ষকদের ছবি শেয়ার করা হয়েছে। এতে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানানো নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কিছু সংশয় দেখা দিয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানানো শিক্ষকদের অধিকাংশই বিএনপিপন্থি। এছাড়া বুধবার (৩১ জুলাই) দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে।
সংহতি জানিয়ে শাবিপ্রবির গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ‘আমরা সরকারবিরোধী কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, গ্রেফতার ও নিপীড়নের প্রতিবাদে শিক্ষকরা র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করছে। আমরা সার্বিকভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এই বৈষম্যবিরোধী মঞ্চে আসার আমন্ত্রণ করেছি। যারা মানসিকভাবে মনে করেছে আসা উচিত, তারাই এসেছেন।’
র্যালি-সমাবেশের ছবি বিএনপির ফেসবুক পেজে, সংশয়ে শাবিপ্রবির শিক্ষকরা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিবাদ র্যালি ও সংহতি সমাবেশ হয়েছে। বুধবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনা একাত্তরের সামনে থেকে র্যালি শুরু করেন শিক্ষকরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা প্রধান ফটকে এসে অবস্থান নেন। এতে বিভিন্ন বিভাগের, অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ফেসবুক পেজে শাবিপ্রবির এই শিক্ষকদের ছবি শেয়ার করা হয়েছে। এতে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানানো নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কিছু সংশয় দেখা দিয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানানো শিক্ষকদের অধিকাংশই বিএনপিপন্থি। এছাড়া বুধবার (৩১ জুলাই) দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে।
সংহতি জানিয়ে শাবিপ্রবির গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ‘আমরা সরকারবিরোধী কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, গ্রেফতার ও নিপীড়নের প্রতিবাদে শিক্ষকরা র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করছে। আমরা সার্বিকভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এই বৈষম্যবিরোধী মঞ্চে আসার আমন্ত্রণ করেছি। যারা মানসিকভাবে মনে করেছে আসা উচিত, তারাই এসেছেন।’
‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ভালো দৃষ্টান্ত নয়। আর এগুলো আমাদেরকে বলতেই হবে। এই হামলা কারোর কাছেই ভালো দেখাবে না এবং সন্দেহের বশে মানুষকে ধরা অন্যায়।’ বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
রাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষকরা অংশ নেন। ছবি: সময় সংবাদ
শাহীন আলম
১ মিনিটে পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম আর হামলা করেছে। আপনাদের কাছে কাউকে ধরার তো কোনো রেকর্ড নেই, তাহলে কেন ধরবেন? সন্দেহের বশে কাউকে ধরবেন না, এটা বন্ধ করুন।’
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-শিক্ষকদের মৌন মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে সাদা পোশাকের পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে। এ সময় আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষকরা বাধা দেন।
বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকরা। পরে সেখানে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। ছাত্র-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চলমান মানববন্ধনে অতর্কিত হামলা চালায় পুলিশ। পাঁচ ছাত্রকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষকরা তাদের ছিনিয়ে নেয়।
পরে শিক্ষকদের সামনে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের সঙ্গে আগে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে ডাকা হয়েছিল। পরে সঙ্গে সঙ্গে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
No comments:
Post a Comment