Wednesday, July 31, 2024

মার্চ ফর জাস্টিস : সময় নিউজ

 

কিশোরগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলি, হত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জে সীমিত পরিসরে মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
https://www.somoynews.tv/news/2024-07-31/0tKy4H5x

Thursday, July 18, 2024

কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা, যানচলাচল বন্ধঃ জাগো নিউজ

 

কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা, যানচলাচল বন্ধ


কিশোরগঞ্জ-ভৈরব-ঢাকা মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। ফলে দুইঘণ্টা ধরে এ মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সদর উপজেলার বিন্নাটি মোড় অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

স্থানীয়রা জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে সড়কে অবস্থা নিয়ে আন্দোলন শুরু করে।


কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তাফা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।


কিশোরগঞ্জে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক : সমকাল নিউজ

 

কিশোরগঞ্জে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক


কিশোরগঞ্জ শহরে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালালে এ ঘটনা ঘটে। 




বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শহরের সরকারী গুরুদয়াল কলেজ, কালীবাড়ি মোড়, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল মাঠ ও আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়। বেলা ১২টার দিকে তারা শহরে মিছিল বের করে। মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশের হাতে ছিল লাঠি। একটি মিছিল গৌরাঙ্গবাজার মোড় হয়ে রথখলা এলাকার দিকে গেলে সেখানে রামদা, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র অর্ণবকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। সেখানে সাদমান নারিফ নামে সরকারী বালক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্র হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া সরকারী গুরুদয়াল কলেজের ছাত্রী বিশা জান্নাত সারাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রীও আহত হয়েছেন।

হাসিনা-বার্তার পর বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন কোন পথে? বিজেপিতে শুভেন্দু-‘বিতর্ক’। নজরে কী কী

 

হাসিনা-বার্তার পর বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন কোন পথে? বিজেপিতে শুভেন্দু-‘বিতর্ক’। নজরে কী কী

বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেডিয়ো এবং টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী ছক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ওই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ছাত্র-যুব আন্দোলন ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশ। সংরক্ষণ-বিরোধী এই আন্দোলনে ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেডিয়ো এবং টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী ছক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ওই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন

বুধবার রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বরিশাল, সিলেট এবং কুমিল্লা থেকে অশান্তির খবর এসেছে। সংঘর্ষ ঠেকাতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস খালি করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং ‘সাউন্ড গ্রেনেড’ ব্যবহার করে বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তিন আন্দোলনকারীকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর আজ নজর থাকবে।

Tuesday, July 16, 2024

কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া : সময় নিউজ


 

কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

কিশোরগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদে শহরে লাঠি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।



মঙ্গলবার ( ১৬ জুলাই ) দুপুরের দিকে কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।


সারা দেশের মতো সকালে ১১ টার দিকে কলেজের সামনে স্মৃতিসৌধ এলাকায় সমাবেশ শুরু করে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে মিছিলের প্রস্তুতি নেয়।

এ সময় বেলা পৌনে বারোটার দিকে হামলা চালায় জেলা ছাত্রলীগ। এ নিয়ে শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়।
এক পর্যায়ে ছাত্রলীগকে ধাওয়া করে হটিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। পরে শহরে লাঠি মিছিল বের করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এদিকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Sunday, July 14, 2024

কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলনঃ সময়ের কন্ঠস্বর

 

কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলন




‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সারাদেশে জুড়ে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে করিমগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে করিমগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে কিশোরগঞ্জ চামড়া ঘাট সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। এসময় দু’পাশে প্রায় তিন শতাধিক যানবাহন আটক অবস্থায় থাকে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নানা শ্লোগান ও দাবি সংবলিত প্লেকার্ড প্রদর্শন শেষে রাস্তা অবরোধ তুলে নেন।

কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে গড়ে উঠা এ আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা দল-মত নির্বিশেষে অংশ নিচ্ছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা করেন।

একদফায় বলা হয়েছে- ‘সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।

Wednesday, July 10, 2024

Road blockade protest against quota system : The Daily Post

 

Road blockade protest against quota system



The students of Gurudayal Government College blocked the road in Kishoreganj to demand the abolition of quota system in government jobs. They protested and held a rally at Gaurangabazar area of ​​the district city yesterday afternoon. As they held this protest rally till 12 noon, traffic jam was created on the road. Earlier, a protest procession left the Gurudayal Government College campus and reached the campus through Municipal intersection, Akhabazar, Kachari Bazar, Battala and ended with a rally.

At that time, many people had banners and festoons in their hands. At that time, they kept chanting slogans like 'There is no room for discrimination in Bangabandhu's Bengal', no discrimination in the Bengal of seventy-one', 'Quota pratha nipat jak, Medhabira mukti pak' etc.

The demand of the students is to reinstate the circular of 2018. Subject to the circular being reinstated, the commission should be constituted and 'quota reforms' should be made as soon as possible by keeping a maximum quota of 10 percent in government jobs (class 1 to 4). If proper candidates will not be found in the quota, appointment will be made on the basis of merit to ensure a corruption-free, impartial and merit-based bureaucracy.

At that time, the protesting students said that the country became independent to get rid of discrimination. Ordinary students have woken up today so that there should be no more discrimination in independent Bengal. Many students in the country are currently suffering from the frustration of not getting a job. Meanwhile, ordinary students are being treated unfairly by maintaining quota jobs. Ordinary students are falling behind due to quota.

But quota holders are getting benefits. So they want to reform the existing quota system. Quota system in jobs is like poison for common students. After protesting on the road for about an hour, the students went to the campus and held a rally. Officer-in-charge (OC) of Kishoreganj Sadar Model Police Station Mohammad Golam Mostafa said, the students moved away from the road after a while. The traffic on the road returned to normal soon.


Monday, July 8, 2024

শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলন নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মন্তব্য(ইত্তেফাক নিউজ)

 

শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলন নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মন্তব্য

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন হওয়ায় তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করা উচিত না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। সোমবার (৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টে প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত (হাইকোর্ট) একটি রায় দিয়েছেন। এমনকি সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গেছে সরকার। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা তাদের (শিক্ষার্থীদের) উচিত হবে না। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এটি নিয়ে রাস্তায় নামা উচিত নয়। এ অবস্থায় তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করব। 
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বহাল রাখা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে আদালত কতটুকু হস্তক্ষেপ করতে পারে, সে বিষয়ে আমরা আমাদের যুক্তিতর্ক আদালতে উপস্থাপন করেছি। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তার কার্যালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।


Thursday, July 4, 2024

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালে ইউট্যাবের উদ্বেগ (প্রথম আলো নিউজ)

 

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালে ইউট্যাবের উদ্বেগ





সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। একই সঙ্গে কোটাপ্রথা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে এ অবস্থান জানিয়েছেন ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খান।

বিবৃতিতে ইউট্যাব বলেছে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে কোটা কখনোই মেধার বিকল্প হতে পারে না। সুতরাং চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন করছেন, তা শুধু প্রাসঙ্গিক নয়, অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে সরকার। কিন্তু গত ৫ জুন সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যা গত ৯ জুন চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ৪ জুলাই শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। কিন্তু আজ হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি মুলতবি হয়েছে। রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
কয়েক দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৩ শিক্ষক ইউট্যাবের বিবৃতিতে সই করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আবদুর রশিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. শামসুল আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. নসরুল কাদির, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আবুল হাসেম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. এমতাজ হোসেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাজেদুল করিম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জামিলুর রহমান, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. নওশের ওয়ান প্রমুখ।



কোটা বাতিলের আন্দোলন (যুগান্তর)

 

কোটা বাতিলের আন্দোলন





সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। একই সময়ে সরকারের চালু করা সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরাও। বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকারের দুটি পৃথক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম থমকে গেছে। কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে বুধবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি, জাহাঙ্গীরনগর ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।
১৯৭২ সাল থেকে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা চালু থাকলেও ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তা সংস্কারের দাবিতে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এ আন্দোলনের উত্তাপ ক্রমেই বাড়তে দেখা যায়। সেসময় সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র প্রাধান্য পায় কোটা সংস্কারবিষয়ক আলোচনা। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ওই বছরের ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সব কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। ফলে সে বছরের অক্টোবরে সরকারি চাকরিতে নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে (যেসব পদ আগে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি বলে পরিচিত ছিল) নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। বস্তুত এর পরই পুনরায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দানা বাঁধে।
এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই যে, একটা সময় পর্যন্ত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততি ও নারীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরিতে কোটা পদ্ধতির প্রয়োজন ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। বিশ্বের সর্বত্র এখন মেধাকে দেওয়া হয় সর্বাধিক গুরুত্ব। আমাদের দেশেও প্রশাসনসহ সরকারি কর্মকাণ্ডে দক্ষতা বাড়াতে মেধার প্রতি গুরুত্ব বাড়ানোর বিকল্প নেই। চাকরিক্ষেত্রে বৈষম্যের অবসানেও এর প্রয়োজন। সংবিধানের ১৯(১), ২৯(১) ও ২৯(২) অনুচ্ছেদে চাকরির ক্ষেত্রে সব নাগরিকের সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। আবার এটিও সত্য, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে আসার জন্য সংবিধানে কোটার বিষয়ে বলা রয়েছে।
আমরা মনে করি, পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই এ বিষয়টির সুরাহা করা দরকার। এটা তো ঠিক, চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন সরকার বা কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। তাদের আন্দোলন অধিকারের প্রশ্নে। তাই এসব দাবি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। আবার এটাও ভুলে গেলে চলবে না, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের অপসংস্কৃতি নিন্দনীয় ও অপরাধযোগ্য। সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতেই পরিস্থিতির সুরাহা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

কোটা বিরোধী আন্দোলন: ঢাবির হলে ছাত্রলীগের বাধার অভিযোগ (বিডি নিউজ ২৪)

 

কোটা বিরোধী আন্দোলন: ঢাবির হলে ছাত্রলীগের বাধার অভিযোগ





ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোটা বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা যাতে কর্মসূচিতে যেতে না পারেন, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে আন্দোলনকারীদের ভাষ্য।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাস্টারদা সূর্য সেন হল ও কবি জসীম উদ্‌দীন হল ফটকে তালা দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হলের ফটকে গেলে তালা খুলে দেওয়া হয়।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিজয় একাত্তর হলের ফটকে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের প্রার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতদিনের মত বৃহস্পতিবারও ব্যানার নিয়ে সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থীরা এক জোট হয়ে মিছিল নিয়ে আসে হলগেটে। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন এবং হল গেট তালা মেরে দেন।
ছাত্রলীগের তরফে সেখানে নেতৃত্ব দেন হল শাখার সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান, মনির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেন, রাকিব উল ইসলাম, মুন্সী রাকিব হোসেন, তৌহিদুজ্জামান অভি, যুবরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ খান শৈশব, প্রচার সম্পাদক ফয়সালসহ অনেকে।
আটকা পড়াদের একজন বলেন, “আমরা আমাদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে যেতে চাই। কিন্তু ছাত্রলীগ হল থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ভিতরের ও বাহিরের গেট আটকে দিয়েছে। তারা হল গেটে অবস্থান করছে। যারাই হল গেটে যাচ্ছে তাদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।”
সূর্যসেন হলের এক দারোয়ান বলেন, “আমরা গেটের দায়িত্বে আছি ঠিকই। কিন্তু হল গেটে ছাত্রলীগ তালা মেরেছে। পোলাপানদের মিছিলে যেতে না করেছে। এখন হল চালায় ছাত্রলীগ, আমাদের কাছে নিয়ন্ত্রণ নেই।”
হল গেইটে তালা দেওয়ার বিষয়ে সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন ভূইয়াকে ফোন দেওয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব উল ইসলাম বলেন, “একদল শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে একসাথে স্লোগান দিচ্ছিল। আমরা মনে করেছি, কোনো ঝামেলা হয়েছে। তাই হল গেইটে তালা দিয়েছি। পরে তারা খুলে দেওয়া হয়েছে।”
এবিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।

চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা: হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি, আবেদনের শুনানি মুলতবি (প্রথম আলো)

 

চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা: হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি, আবেদনের শুনানি মুলতবি




সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত হয়নি।
হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি মুলতবি হয়েছে। রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ জুন হাইকোর্ট ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যা গত ৯ জুন চেম্বার আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ৪ জুলাই শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি ওঠে।
ক্রম অনুসারে বিষয়টি উঠলে রিট আবেদনকারীপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মো. জহিরুল ইসলাম এক দিনের (নট টুডে) সময়ের প্রার্থনা জানান। তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী দেশের বাইরে রয়েছেন। ৮ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আগে কোটা ছিল। ২০১৮ সালে কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করা হয়। এটা বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই রায় স্থগিতের আরজি জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘চেম্বার আদালত কি আদেশ দিয়েছিলেন?’
তখন মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নট টুডে (আজ নয়)। আপনারা সিপি (লিভ টু আপিল) ফাইল করেন। আমরা এখন ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করব না।’
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘রায়টা (হাইকোর্টের) পাইনি।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পাবেন।’
একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এত আন্দোলন কিসের, রাস্তায় শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন?’
তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নো, নো (না, না)। আন্দোলনের সঙ্গে এই আবেদনের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকারের পলিসি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখানে আইনের প্রশ্ন জড়িত, যে কারণে আবেদন নিয়ে এসেছি।’
২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে।
১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চের স্মারক সংশোধন করে জারি করা পরিপত্রের ভাষ্য, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) ও ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) ও ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি বাতিল করা হলো।
পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

কোটা আন্দোলন, ছয় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা (সময়ের আলো)

 কোটা আন্দোলন, ছয় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা




নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে ছয় ঘণ্টা পর রাজধানীর শাহবাগ মোড় ছেড়েছেন সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল প্রতিবাদে ও ২০১৮ সালের কোটা পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগের রাস্তা ছাড়েন। একইসময়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।

কর্মসূচির মধ্যে আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে কোটা বাতিলের পক্ষে অনলাইনে ও অফলাইনে জনসংযোগ ও সমন্বয়, শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও রোববার সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদযাত্রা নিয়ে এসে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ অবরোধ করেন। এসময় ‘১৮ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘১৮ এর পরিপত্র, বহাল করতে হবে’, ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ সহ শিক্ষার্থীদের নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ছয় ঘণ্টার অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর সড়ক, মৎস্যভবন, শাহবাগ থেকে ফার্মগেটগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেকেই হেঁটে গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা হয়।

কোটা বাতিলের দাবির পক্ষে আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ান আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, কোটা ব্যবস্থা কার্যত বাংলাদেশের কোটাবিহীন সাধারণ মানুষদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে রূপান্তর করে দিয়েছে। বর্তমানে অনগ্রসর নয় এমন বহু জনগোষ্ঠী কে কোটা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র জন্ম হয়েছিল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে। কিন্তু এতো বছর পেরিয়ে গেলেও এই বৈষম্য আমরা দূর করতে পারিনি।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে মিছিল নিয়ে সংগঠিত হন শিক্ষার্থীরা।

তবে এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হল ও কবি জসীম উদ্‌দীন হল গেটে তালা দেওয়া হয়। এ কথা ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে এসে সূর্যসেন হলে আটকা পড়া শিক্ষার্থীদের বের করে নিয়ে আসে।

শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে এ আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ছাড়া); সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সময়ের আলো/জেডআই

কোটা নিয়ে ‘এতো কীসের আন্দোলন’, প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির (যুগান্তর নিউজ)

কোটা নিয়ে ‘এতো কীসের আন্দোলন’, প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির




মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে গত কয়েকদিন টানা আন্দোলন চলছে রাজধানীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিতে আপিল বিভাগে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা আজ হয়নি। এতে করে আগের রায় আপাতত বহাল থাকবে। 
শুনানির দিন (আজ) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, রাজপথের আন্দোলন দেখে সুপ্রিম কোর্ট–হাইকোর্ট রায় পরিবর্তন করে না। 
এদিন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির জন্য (স্ট্যান্ডওভার) মুলতবি করে। এরপর হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল (নিয়মিত আপিল) করতে বলে আপিল বিভাগ।
রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দিয়েছেন।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল কোটা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে এ মামলায় স্থিতাবস্থা চান। 
জবাবে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, এতো কীসের আন্দোলন? সুপ্রিম কোর্ট–হাইকোর্ট কি আন্দোলন দেখে বিচার করবে? এ সময় আবারও এই মামলার স্তিতাবস্তা চাইলে আজ মামলাটির শুনানি হবে না বলে জানিয়ে দেয় আপিল বিভাগ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।
ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন তখনকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে সরকারি চাকরিতে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে) কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত।
পরে এ রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু গত ৯ জুন প্রাথমিক শুনানির পর আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়।

কোটা বিরোধী বিক্ষোভ সড়ক-রেল অবরোধ (মানবজমিন নিউজ)

 

কোটা বিরোধী বিক্ষোভ সড়ক-রেল অবরোধ



প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। দাবি আদায়ে গতকাল রাজধানীর শাহবাগসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন তারা। কোটা নিয়ে চেম্বার আদালতে আপিল শুনানির আগের দিন শিক্ষার্থীরা বলেন, রায় পক্ষে না গেলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। কোনোভাবেই শিক্ষার্থীরা বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি মেনে নেবেন না। দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি কঠোর থেকে কঠোর হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল দুপুর আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।
   
সেখান থেকে শুরু হয় কোটা বাতিলের দাবিতে গণপদযাত্রা। পদযাত্রাটি টিএসসি, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মোড়, মৎস্য ভবন প্রদক্ষিণ শেষে দেড়ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধের মাধ্যমে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীকে থামানো যায়নি। তারা কোটাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ রাস্তা ছেড়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের অবরোধে ওই এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অবরোধ কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীদের কঠোর হুঁশিয়ারি- রায় পক্ষে না গেলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেড়ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধের পর আজকের মতো কর্মসূচি শেষ করছি। আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কোটা পুনর্বহালের রায় দেবেন। তাই আমরা আগামীকাল বেলা ১১টায় আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবো। এ সময় আমরা সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে অবস্থান গ্রহণ করবো। যদি রায় আমাদের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে আমরা নতুন করে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবো। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’- স্লোগান দেন। এ সময় এক মুক্তিযোদ্ধার নাতিও কোটার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে অধ্যয়নরত শ্রবণ নামের ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের পূর্ব-পুরুষরা যুদ্ধ করেছিলেন সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার জন্য। মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করার জন্য নয়। ৩০ শতাংশ কোটা কখনো সেই সমতার নিশ্চিত করে না। এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। এটা মেধাবীদের সঙ্গে বৈষম্য। শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা নয়, জেলা কোটা, নারী কোটাসহ সব কোটা বাতিল করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের যৌক্তিক দাবি এ আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৫ই জুন হাইকোর্টের রায়ের পর থেকে আমাদের আন্দোলন চলমান। আমরা মাঝখানে আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই আমাদের আবারও রাজপথে নেমে আসতে হয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, কোটা নিয়ে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি হবে। আমরা আশা করবো, সেই শুনানি শিক্ষার্থীদের পক্ষে হবে। আমরা যে চার দফা দিয়েছি, তার প্রথম দফা যেন আগামীকালের মধ্যেই পূরণ করা হয়। প্রথম দফা শেষে আমাদের বাকি দফাগুলো যাতে পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হয়। আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবি তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী শারজিস ইসলাম বলেন, প্রথম দাবি, ২০১৮ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য একটি পরিপত্র জারি করেছিল। সম্প্রতি হাইকোর্ট তা বাতিল করেছেন, সেটি পুনর্বহাল করতে হবে। আমাদের দ্বিতীয় দাবি হচ্ছে, একটি কমিশন গঠনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য যৌক্তিক কোটা রাখতে পারবে। তৃতীয় দাবি, যারা কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন, তারা শুধু জীবনে একবারই এই সুযোগ পাবেন। আমাদের সর্বশেষ দাবি হচ্ছে, কোটার ভিত্তিতে নিয়োগের পর যেসব আসন শূন্য থাকবে, সেগুলোতে মেধা তালিকা থেকে নিয়ে পূরণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ই জুন এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ বলে রায় দেন। রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আপিল করে সরকার। আজ এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে। 
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ২ ঘণ্টা অবরোধ জাবি শিক্ষার্থীদের: সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিল, মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ২ ঘণ্টা অবরোধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা কোটাবিরোধী বিভিন্ন সেøাগান দেন। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজুল ইসলাম মেঘ বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও এসে দেখছি সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা বিদ্যমান। এই বৈষম্যের জন্য কি আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম? আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা কি এই বৈষম্যের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন? আমরা আবারো যুদ্ধে নেমেছি এই বৈষম্য দূর করার জন্য।
আগামী ৪ঠা জুলাই যদি সরকার আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে সারা দেশ অচল করে দেয়া হবে। আমরা কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই, আপনারা সর্বসাধারণের রায় মেনে নিয়ে এ বৈষম্য দূর করুন। আর যদি এই বৈষম্য জারি রাখেন তাহলে বাংলার অদম্য সেনারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।
বাকৃবি শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধ: একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনকারীরা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেনটিকে আটকে ইঞ্জিনের সামনে অবস্থান নেন। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড় রেলক্রসিং এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রায় দেড়ঘণ্টা ময়মনসিংহের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আজীবন সর্বোচ্চ সম্মানের যোগ্য। তবে তাদের সম্মান দেয়ার নাম করে কোটা প্রথার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে চরম বৈষম্যের চেষ্টা করা হচ্ছে। ছাত্র সমাজ এই অন্যায় প্রথা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে ছাত্র সমাজ রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেনের সুপারভাইজার মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, লাল কাপড় টানিয়ে শিক্ষার্থীরা ট্রেন থামাতে বাধ্য করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেনটি আটকা ছিল।
শাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল ও সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিল পরবর্তী অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল গালিবের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ শিকদার ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ। শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ৫ই জুন হাইকোর্টের রায়ে এদেশের শিক্ষার্থীদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। কোটাব্যবস্থা আবার ফিরিয়ে আনা লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রহসন। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে আমরা একাত্মতা পোষণ করছি। কোটাপ্রথা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
কাফনের কাপড় পরে মহাসড়ক অবরোধ ববি শিক্ষার্থীদের: সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল রেখে হাইকোর্টের আদেশের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় কাফনের কাপড় পরে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম ইকবাল রাজু বলেন, আমরা অবশ্যই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। যতদিন পর্যন্ত রায়টা আমাদের পক্ষে না আসে ততদিন আমরা কর্মসূচি পালন করবো। প্রয়োজনে ক্লাস, পরীক্ষাও বয়কট করা হবে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ২৯নং অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা থাকবে। 
মহাসড়ক অবরোধ চবি শিক্ষার্থীদের: সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি বাতিলের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ১টা থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, কলা অনুষদ, বুদ্ধিজীবী চত্বর, কাটা পাহাড় ও জিরো পয়েন্ট মোড় হয়ে ১নং গেট সংলগ্ন চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে গিয়ে অবরোধের মাধ্যমে শেষ হয়। শিক্ষার্থীদের এক ঘণ্টার অবরোধে ৭ কিলোমিটারেরও বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনে আসা মশিউর নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার চেয়ে কম মেধাবী কেউ কোটার মাধ্যমে চাকরি পাবে, আর আমি বেকার বসে থাকবো এটি কখনোই হতে পারে না। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
বৃষ্টির মধ্যে সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের: কোটাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর আগারগাঁও-ফার্মগেট পথ অবরোধ করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি উত্থাপন করে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের আন্দোলনের মূল দাবি সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক কোটা প্রথার পুনর্বিন্যাস। আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী নই, বরং দেশের অগ্রগতি রক্ষায় দেশের সকল চাকরি ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিতেই আমাদের আন্দোলন।

কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন (একাত্তর নিউজ)

 


কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন



প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ বহাল রেখেছেন, একইসঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করে সুপ্রিমকোর্টের রায় পরিবর্তন করা যায় কি না- সেটিও জানতে চান প্রধান বিচারপতি। 
এসময় তিনি বলেন, এতো কীসের আন্দোলন? সুপ্রিম কোর্ট–হাইকোর্ট কি আন্দোলন দেখে বিচার করবে? 
মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে গত কয়েকদিন টানা আন্দোলন চলছে রাজধানীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিতে আপিল বিভাগে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা আজ হয়নি। এতে করে আগের রায় আপাতত বহাল থাকবে। 
শুনানির দিন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, রাজপথের আন্দোলন দেখে সুপ্রিম কোর্ট–হাইকোর্ট রায় পরিবর্তন করে না। 
এদিন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির জন্য (স্ট্যান্ডওভার) মুলতবি করে। এরপর হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল (নিয়মিত আপিল) করতে বলে আপিল বিভাগ।
রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দিয়েছেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল কোটা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে এ মামলায় স্থিতাবস্থা চান। 

জবাবে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, এতো কীসের আন্দোলন? সুপ্রিম কোর্ট–হাইকোর্ট কি আন্দোলন দেখে বিচার করবে? এ সময় আবারও এই মামলার স্থিতাবস্থা চাইলে আজ মামলাটির শুনানি হবে না বলে জানিয়ে দেয় আপিল বিভাগ।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। (ঢাকা পোস্ট)

 সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়ে গেটের সামনে অবস্থান নেন এসব শিক্ষার্থীরা।


রাজপথেই সমাধান চান কোটাবিরোধীরা(DW নিউজ)

 

রাজপথেই সমাধান চান কোটাবিরোধীরা


বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বিভাগ জানান কোটা বাতিলে হাইকোর্টের আদেশ অপরিবর্তিত থাকবে৷
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরও কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন৷ টানা তিন দিন ধরে তারা শাহবাগে আছেন৷ আদালতের রায়কে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার বিরোধী দাবি করে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে কোটার সমাধান করবেন বলে তারা জানিয়েছেন৷
আপিল বিভাগের বৃহস্পতিবার আদেশ
কোটা বহাল রাখতে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে কিনা এ বিষয়ে শুনানিতে আপিল বিভাগ বলেন, ‘‘আপাতত হাইকোর্টের রায় যেভাবে আছে, সেভাবে থাকুক৷ রায় প্রকাশ হলে আপনারা নিয়মিত আপিল দায়ের করেন৷ আমরা শুনবো৷’’
রিটকারীদের পক্ষে এডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘‘আমাদের সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী দেশে না থাকায় আমরা শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেছিলাম৷ কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানির জন্য তাড়া দিচ্ছিলেন৷ তিনি বলছিলেন এটা নিস্পত্তি না হলে নিয়োগ আটকে যাচ্ছে৷ আদালত তখন জানতে চান , এত আন্দোলন কিসের, রাস্তায় কী শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন রাষ্ট্রপক্ষে বলেন, না না৷ এটা আমাদের কিছু নয়৷’’
আন্দোলন ছড়িয়েছে বিভিন্ন জেলায়
কোটাবিরোধী এই আন্দোলন এখন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো৷ বৃহস্পতিবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা৷ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান৷ আন্দোলনের নেমেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরাও৷ বৃহস্পতিবার তারা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন৷
এর আগে ২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে সরকার কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে৷ পরিপত্র জারি করে সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্পোরেশনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোটা বাতিল করা হয়৷
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে৷ সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (আগের ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড (আগের ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে৷ নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি পাঁচ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের এক শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়৷
এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বতিল চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাত জন ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন৷ গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট৷ রায়ে সরকারের পরিপত্র বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখার আদেশ দেয়া হয়৷ এই রায়ের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রপক্ষ' আবেদন করলে ৪ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দেয় চেম্বার জজ আদালত৷

‘কোটা সংস্কার না করে ঘরে ফিরব না’ (যুগান্তর নিউজ)

  ‘কোটা সংস্কার না করে ঘরে ফিরব না’ রাজধানীর শাহবাগে কোটা সংস্করের দাবিতে আন্দোলন। ছবি : সংগৃহীত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শ...